নেই সরকারি সহায়তা, কষ্টে দিন কাটাচ্ছে কর্মহীন চলচ্চিত্র শিল্পীরা

করোনাভাইরাসের আক্রমণে যখন বিধ্বস্ত সারা দুনিয়া তখন হুমকির মুখে বাংলাদেশও৷ দেশে চলমান লকডাউনে বন্ধ আছে সিনেমার শুটিং। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন সিনেমার শিল্পী-কলাকুশলীরা।

বিশেষ করে অতিরিক্ত শিল্পীরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন৷ দিনে এনে দিনে খাওয়া এই সম্প্রদায়ের মানুষেরা কাজহীন এখন। কাজ না থাকায় সিনেমার অতিরিক্ত শিল্পী, প্রোডাকশন বয়, বিভিন্ন বিভাগের সহকারীরা আয়হীন হয়ে অভাবে দিন পার করছেন।গেল বছর থেকেই তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যহত হচ্ছে। তখন থেকে এখন অবধি সরকারের তরফে কোনো অনুদান বা সহায়তা ভাগ্যে জুটেনি তাদের৷ কয়েকজন স্বচ্ছল শিল্পী ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট কিছু সংগঠন ব্যক্তিগতভাবে এগিয়ে এসেছিলেন তাদের পাশে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে৷

এবারের লকডাউনে সে সহায়তাও মেলেনি৷ তাই অনেকেই বিভিন্ন সংগঠনের দ্বারস্থ হয়েছেন টিকে থাকার লড়াইয়ে কিছুটা হলেও সহায়তা মিলবে এই প্রত্যাশায়৷ কিন্তু করোনার ভয়াল থাবায় বিপর্যস্ত সংগঠনগুলোর ফান্ডও৷ তাই চাইলেও গতবারের মতো এবার এগিয়ে আসতে পারছে না তারা৷

সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে এমন তথ্যই পাওয়া গেল। আরও জানা গেল, গতবছর লকডাউনের সময় আর্থিক প্রণোদনার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় বরাবর ২৩১ জন কর্মহীন শিল্পী, কলাকুশলীর তালিকা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু, এখনো সেই প্রণোদনা আসেনি। আটকে আছে অনুমোদনের টেবিলে৷

এ প্রসঙ্গে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান গণমাধ্যমে বলেন, ‘ইচ্ছে থাকা সত্বেও এবার আমরা কর্মহীন শিল্পী, কলাকুশলীদের কোনো ধরনের সহায়তা করতে পারিনি। তবে, গতবার তাদের সহযোগিতা করেছিলাম। এতে সিনেমার অনেক মানুষের বিরাগভাজন হয়েছি। সেই অভিমান থেকেই এবার কিছুই করিনি নিজ উদ্যোগে৷কিন্তু, কত সময় অভিমান করে থাকব। আগামী তিনদিনের মধ্যে পরিচালক সমিতির সঙ্গে মিলে কিছু একটা ব্যবস্থা করব। রোজা চলছে৷ সামনে ঈদ৷ এ মুহূর্তে একটু সহায়তা তাদের জন্য অনেক উপকারে আসবে৷’

তিনি আরও বলেন, ‘পাশাপাশি সরকারি সহায়তার চেষ্টাও করে যাচ্ছি। গতবছর লকডাউনের সময় তথ্য মন্ত্রণালয় বরাবর আর্থিক প্রণোদনার জন্য ২৩১ জন শিল্পী, কলাকুশলীর তালিকা জমা দিয়েছিলাম। পরে কিছু সমস্যা দেখা দিলে সেটা ঠিকঠাক করে আবার তালিকা পাঠিয়েছি। কিন্তু, আজ পর্যন্ত একটি টাকাও পাইনি। তথ্য মন্ত্রণালয় কিছুই জানায়নি।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের সবার অনুরোধ এসব শিল্পীদের তালিকা অনুযায়ী প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করলে হয়তো তাদের বেঁচে থাকাটা সহজ হবে।’

একই সুর শোনা গেল পরিচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহীন সুমনের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘আমরা কর্মহীন শিল্পী-কলাকুশলীদের তালিকা করেছি। এখন একবার চাল, ডাল তেল জাতীয় কিছু দেব। ঈদের আগে আরেকবার ভালোকিছু দেয়ার চেষ্টা করবো। ঈদের আগে তাদের কিছু কিছু অর্থও দেওয়ার ইচ্ছা আছে। দেখা যাক কী হয়। ইচ্ছে তো করে অনেক কিছু করি। সেই সাধ্য তো হয়ে উঠে না।’

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!