IAS হওয়ার জন্য HR এর চাকরি ছেড়ে, দুইবার ব্যর্থ হয়ে বিষন্নতায় আজ কাগজ কুড়ানি এই মহিলা, পুরোটা জানলে চোখে জল আসবে

প্রায়শই শোনা যায় যে, অনেকেই পড়াশোনা করে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পেরে হতাশ হয়ে অন্য পথ অবলম্বন করে। কোন কিছুর প্রতি অত্যাধিক উন্মাদনা আমাদেরকে হতাশার দিকে ঠেলে দেয়।আপনার লক্ষ্যের প্রতি আবেগ গড়ে ওঠা ভালো জিনিস তবে তা যদি খুব বেশি হয়ে যায় তাহলে সেটি খারাপ কারণ অত্যাধিক উন্মাদনা ব্যক্তিটিকে হতাশ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দেয়।

প্রত্যেকেরই ইচ্ছা থাকে একটি ভালো কাজ করা যেমন আইএএস, আইপিএস এর মত চাকরি করা। এইরকমই আইএএস হওয়ার স্বপ্নটি পূরণের চেষ্টা করেছিলেন হায়দ্রাবাদে রজনী টোপা। এর জন্য তিনি দুইবার চেষ্টা করেছিলেন।সম্ভবত কিছু ঘাটতির কারণে তিনি এই প্রচেষ্টা সফল হতে পারেননি এবং ব্যর্থতার কারণে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন এবং এর থেকে বের হওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে।

আজ তার অবস্থা এমন যে তাকে রাস্তার আবর্জনা কুরোতে দেখা যায়। আসলে হায়দ্রাবাদের ওয়ারারগালের বাসিন্দা রজনী টপা আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন।তার স্বপ্ন পূরণের জন্য তিনি একটি বহুজাতিক সংস্থায় এইচ আর ম্যানেজারের পদে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন। যখন তিনি তাঁর দ্বিতীয় প্রয়াশে সফলতা পেলেন না তখন তিনি আস্তে আস্তে হতাশ হয়ে পড়তে শুরু করেন।

তার অবস্থা এতটাই অবনতি হয়েছিল যে 8 মাস আগে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। নিজের শহর হায়দ্রাবাদ থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে গোরখপুর এর রাস্তায় তাকে আবর্জনা তুলতে দেখা গেছে। এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তেইশে জুলাই রজনী টপাকে গোরখপুর এর তিওয়ারিপুর থানার কাছে খুব খারাপ অবস্থায় পাওয়া গেছিল।

তাকে সেখানে ডাস্টবিনের কাছে ফেলে দেওয়া শুকনো ভাত তুলতে দেখা যাচ্ছিল। লোকেরা তা দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সে তাদের সাথে সাবলীল ইংরেজিতে কথা বলতে লাগেন। তার পরে পুলিশ তাকে “মাতৃ ছায়া” চ্যারিটি ফাউন্ডেশনে প্রেরণ করেন। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে এবং এখন তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

একটি কথোপকথনের সময় রজনীর বাবা মাতৃছায়া চ্যারিটেবেল ফাউন্ডেশন এর কর্মকর্তাদের বলেছিলেন যে, রজনী 2000 সালে প্রথম শ্রেণীতে এম বি এ পাস করেছিল। তার স্বপ্ন ছিল আইএএস হওয়ার। তবে দুবার সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ফেল করার ফলে সে হতাশ হয়ে পড়ে। তার পরেও তিনি এইচ আর এর কাজ করেছিলেন কিন্তু এই চাকরিও তাকে হারাতে হয়েছিল।

যার ফলে দিন দিন তার অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকে। নভেম্বর মাসে তার মানসিক অবস্থার পুরোপুরি অবনতি হলে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যান। আশাকরি রজনী যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই হতাশা থেকে বেরিয়ে আসবে এবং আবার নতুনভাবে তার ক্যারিয়ার শুরু করবে এর জন্য তাকে অনেক শুভেচ্ছা।।

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!