মামলা দিয়ে মুনিয়াকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রাখেন বোন নুসরাত!

পৈতৃক সম্পত্তির দখল নিয়ে মোসারাত জাহান মুনিয়ার বোন নুসরাত তার একমাত্র ভাই ও চাচার বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। সেই মামলা দিয়ে মুনিয়াকে পরিবারের সবার কাছ থেকে আলাদা করে ফেলেন নুসরাত। এককভাবে মুনিয়ার ওপর নিয়-ন্ত্রণ নেন বোন ও ভগ্নিপতি মিজান। তারা নিজেদের স্বা-র্থে ব্যবহার করেন

মুনিয়াকে। নিজে কুমিল্লায় ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকলেও মুনিয়ার থাকার জন্য মাসে লাখ টাকায় -ফ্ল্যা-ট ভাড়া করেন গুলশানে। ওই ফ্ল্যাট ভাড়া নিতে নুসরাত ও তার স্বামী মিজানুর রহমানের এনআইডি কার্ডসহ অন্যান্য তথ্য জমা দেন। কুমিল্লার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ বলেন, নুসরাত পরিকল্পিতভাবে মুনিয়াকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখেন। বিষয়টি স্বীকার করেছেন মুনিয়ার ভাই আশিকুর রহমান সবুজ ও চাচা শাহাদাত হোসেন সেলিমও। এ বিষয়ে মনোহরপুর এলাকার বাসিন্দা ও ফার্মেসী ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, মনোহরপুর উজিরদিঘীর পাড় এলাকার বাসিন্দা

মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান একজন সম্মানিত লোক ছিলেন। মু-ক্তিযো-দ্ধা হিসেবে এলাকার সবাই তাকে, তার পরিবারকে সম্মানের চোখেই দেখত। কিন্তু ব্যতিক্রম ছিল নুসরাত। স্টুডেন্ট লাইফ থেকেই উগ্র নুসরাতকে নিয়ে নানা কথা ছড়ায় এলাকায়। তিনি এক সময় বেসরকারি ডাচ্্-বাংলা ব্যাংকের ঝাউতলা শাখায় চাকরি করতেন। ২০১৮ সালে

একজন সহকর্মীর সঙ্গে শহরের ঝাউতলার বাসায় আপ-ত্তি-কর অবস্থায় পুলিশ আটক করে নুসরাতকে। ওই অভিযানে ছিলেন পুলিশের পরিদর্শক সালাহ উদ্দিন। পরে ডাচ্্-বাংলা ব্যাংকের ওই শাখার ম্যানেজারের জি-ম্মায় মুচলেকা রেখে নুসরাতকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে নুসরাত এবং ওই যুবককে আলাদা শাখায় বদলি করা হয়। সেখান থেকে চাকরি ছেড়ে নুসরাত যোগ দেন পদ্মা ব্যাংকে।

নুসরাতের ভাই শফিকুর রহমান সবুজ বলেন, ‘আমরা তিন ভাই-বোনের মধ্যে মুনিয়া তৃতীয়। তার বয়স ২১ বছর। সে মাধ্যমিক শেষ করে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে পড়াশোনার জন্য যথাসাধ্য সহযোগিতা করে আসছিলাম। এরই মধ্যে আসামি নাজমুল করীম চৌধুরী শারুনের সঙ্গে আমার বোনের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে মাঝে মধ্যে আসামি শারুনের সঙ্গে কথাবার্তা ও দেখা সাক্ষাৎ হতো মুনিয়ার। আমার বোনকে

হ-ত্যার আগে তার কাছ থেকেই আমি এসব কথা জেনেছি ও শুনেছি। কিন্তু অত্য-ন্ত দুঃখের বিষয় গত দু’বছর আগে আমার বোন নুসরাত জাহান (তানিয়া) ও তার স্বামী মিজানুর রহমানের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে গুলশানে ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাড়িতে ফ্ল্যাট ভাড়া করে। সেখানে আমার ছো-ট বোন নুসরাত আমার অপর ছোট বোন মুনিয়াকে ওই বাসায় অব-স্থানের নির্দেশ দেয়। তাদের নির্দেশে মুনিয়া সেখানে অবস্থান শু-রু করে। সেই বাসা থেকেই তার লাশ উ-দ্ধার করে।’

নুসরাতের এক আ-ত্মীয় জানান, মুনিয়ার মারা যাওয়ার মাত্র ৬ দিন আগে নুসরাত ও মিজানের বিবাহ বার্ষিকী পালন করা হয় কুমিল্লা শহরের একটি রেস্টুরেন্টে। সেখান খরচ হয় ৯৫ হাজার টাকা। যার পুরো টাকাই দেন মুনিয়া। টাকার জন্য নুসরাত ও তার স্বামী মিজান মুনিয়াকে সবসময় চাপে রাখত। এমনকি মারধরও করত বলে জানা গেছে। মুনিয়া বিভিন্ন সময় তার ব-ন্ধুদের সঙ্গে বিষয়গুলো শেয়ার করেছেন।

তবে মুনিয়ার ভাই সবুজ বলেন, ‘মুনিয়ার অবাধ চলাফেরা শুরু থেকেই আমি অপছন্দ করতাম। মুনিয়া কোথায় থাকে, কী করে তার কিছুই আমাদের জানতে দিতো না নুসরাত ও তার স্বামী। এমনকি তার মৃ-ত্যুর খবরও শু-রুতে দেওয়া হয়নি। ঘ-টনার সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে আমাকে জানানো হয় মুনিয়া আ-ত্মহ-ত্যা করেছে। মুনিয়ার বিষয়ে নুসরাত ও তার স্বামী অনেক তথ্যই গোপন করে আমার কাছে।’

সবুজ বলেন, ‘আমাদের পৈ-তৃক সম্প-ত্তির সমান ভাগ নিয়ে নুসরাত, আমি, আমার চাচা-চাচিসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করে। মামলার কারণে স্বা-ভাবিকভাবেই নুসরাত ও মুনিয়ার সঙ্গে আমার দূরত্ব তৈরি হয়। ওই মামলা এখনও চলছে। ২০১৫ সালে আমার বাবা মারা যাওয়ার পর মুনিয়ার সম্পূর্ণ নিয়-ন্ত্রণ নেন নুসরাত। মুনিয়ার আ-ত্মীয়রা বলছেন, বাবা-মার মৃ-ত্যুর পর এই বোন-ভগ্নিপতিই ছিলেন মুনিয়ার একমাত্র অভিভাবক। টাকার লোভে তারা মুনিয়ার জীবন কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন সেটা একবার জানারও চেষ্টা করেননি। বরং ছোট বোনকে যথেচ্ছাচার করার, যেখানে-সেখানে থাকার স্বাধীনতা দিয়ে বোন-ভগ্নিপতি হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অঙ্কের অর্থ।’

মুনিয়ার বোন নুসরাত বলেন, ‘আমার সন্তান না থাকায় আমি মুনিয়াকে আমার নিজের সন্তানের মতো মানুষ করেছি। এখন পারিবারিক অভিভাকত্ব দাবি করে আমার বিরু-দ্ধে অপপ্র-চার ছড়ানো হচ্ছে। আমাদের পরিবারে সম্প-ত্তি নিয়ে বিরোধ ও মামলা আছে এটা কুমিল্লার সবাই জানে। আমি আমার ভাই ও চাচার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। এর মানে এই নয় যে, মামলাটি ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে হবে।’

উল্লেখ্য, রাজধানীর গুলশানের ফ্ল্যাট থেকে গত ২৬ এপ্রিল লাশ উ-দ্ধার করা হয় মোসারাত জাহান মুনিয়ার (২১)। এ ঘটনায় তার বোন বাদী হয়ে গুলশান থানায় আ-ত্মহ-ত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন। আর গত ২ মে মুনিয়ার মৃ-কে হ-ত্যা উল্লেখ করে আদালতে জাতীয় সংসদের হুইপ ও চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনকে আসামি করে আরেকটি মামলা করেন। মুনিয়ার আ-ত্মহ-ত্যার প্ররোচনার মামলাটি ত-দন্ত করছেন গু-লশান থানার ওসি আবুল হাসান। তিনি বলেন, মামলার তদ-ন্তে অনেক তথ্যই আসছে। সেগুলো আমরা যাছাই বাছাই করে দেখছি।

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!